বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আবারও প্রমাণ করল তাদের আমলাতন্ত্রের দুর্বলতা আর খেলোয়াড়দের প্রতি অবহেলার ঘটনা। নাজমুল ইসলামকে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বোর্ডের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে, যা একটি বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দেয়: কেন এত অদ্ভুত এবং অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
২০১৫ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নাজমুল ইসলাম তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। ক্রিকেটারদের পক্ষে তালাবদ্ধ আন্দোলনের আয়োজনের পরও তাকে পদচ্যুত করার কথা বলেছিল বিসিবি, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ‒ শব্দে না, কাজে ‒ তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। আমার সূত্রগুলো জানায়, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বিসিবির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এক গোপন অধ্যায়।
একটি স্বাধীন ক্রিকেট বোর্ড হিসাবে কাজ করতে গিয়ে বিসিবি প্রায়ই এই সমস্যা থেকে মুক্তির চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবে, তাদের সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত ক্রিকেটারদের স্বার্থের পরিপন্থী। জানুয়ারী মাসে যখন একটি জাতীয় প্রথা হিসেবে ধারাবাহিকভাবে ক্রিকেটাররা তার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন, তখন বোর্ড বিদ্যমান সংকটকে চেপে রেখে, অদৃশ্যভাবে ‘দুর্গ’ তৈরি করেছে নাজমুলের নেতৃত্বে।
ক্রিকেটারদের দাবি ছিল স্পষ্ট, তবে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির ঘটনার পেছনের সত্যিটা গুছিয়ে বেশি দূরে নিয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নাজমুলের পুনর্বহাল সত্যিই প্রশাসনের শক্তি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার ফল? নাকি ক্রিকেটারদের ওপর এবং সমর্থকদের প্রতি বোর্ডের চিন্তা-ভাবনা অনুমান করতে চাচ্ছে?
তাদের নিভৃতে পরিচালিত পরিকল্পনাগুলোর পেছনে যে একটি দুষ্ট শক্তি কাজ করছে ‒ তা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে আমার কিছু সূত্র বলে যে, নাজমুলের পদত্যাগ এক ধরনের কৌশল হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে তারা ভবিষ্যতে ক্রিকেটারদের ওপর আরো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। এখানে একটি দার্শনিক প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে ক্রিকেটাররা নিজের অধিকার মেনে নিতে পারে যখন তাদের বিশাল প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে আটকানো হচ্ছে?
তবে বিসিবির বোর্ডের এই অতুলনীয় অবস্থা শুধুমাত্র এক পদের পরিবর্তনে ঠেকেনি। এটি প্রতিশ্রুতি অমান্য করে বর্তমান অবস্থায় থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট চালক শক্তি তৈরি করছে, যা প্রমাণ করে যে, এখানকার নাটকটি অনেক গভীর এবং খেলার জন্য সত্যিই মর্মাহত।
চারপাশের রাজনৈতিক পরিবেশের পটভূমিতে নাজমুলের পুনর্বহাল আমাদেরকে আবারও মনে করিয়ে দেয় একটি চলমান ষড়যন্ত্রের কথা। বিসিবি এবং জাতীয় নির্বাচনের পর চাপের মধ্যে থাকা রাজনৈতিক পালাবদল ‒ কিভাবে স্পনসরশিপ এবং বাজির জগতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কিছু গোপন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে, তা আমাদেরকে ভাবাচ্ছে।
কি ঘটছে অন্তরালে, সেটা জানার দায়িত্বরত সাংবাদিক হিসেবে আমার উপর চাপই এসে পড়ছে। বিসিবির এই ঘোষণার বিপক্ষে গোপন তদন্ত চালানো উচিত। সাধারণ জনগণ জানে না, তাদের মধ্যে কি হচ্ছে। সাবধান! এই অবস্থা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এবং সাফল্যের পথে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

















